[
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দার্বিনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের শেষ দিনে বাংলাদেশ একটি অবাককারি জয় তুলে নিয়েছে। মাঠে ৫৭ রানের লক্ষ্য হাঁটার পর বাংলাদেশ সেই লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ করে। মারারা স্টেডিয়ামে ১৩ থেকে ১৬ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ঘটনা ঘটেছিল, যা দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচ।
অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এই হতাশাজনক পরাজয়ের পর বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রথম দিনের খেলাই মূল বাঁক পরিবর্তনের পয়েন্ট ছিল। এই দিনটা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং পার্টনারশিপ গড়তে ব্যর্থতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট নিতে অক্ষমতা নিয়ে কথাও বলেন।
“প্রথম দিনটি আমাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি মনে করি, আমাদের প্রস্তুতি সঠিক ছিল, কোনো অজুহাত নেই। তারা বেশ ভালো খেলেছে। আমরা দীর্ঘ সময় ব্যাট করার উপায় খুঁজে বের করতে পারছিলাম না এবং বল নিয়ে প্রবেশ করতে পারছিলাম না। প্রতি বার যখন এরকম একটি ম্যাচ হয়, আপনি ম্যাচ আপের দিকে খেয়াল করেন,” ম্যাচ পরবর্তী সম্মেলনে এসে বলেছিলেন কামিন্স।
অস্ট্রেলিয়া কোথায় হারলো?
কামিন্স বাংলাদেশ দলের সর্বাধুনিক পারফরম্যান্সের ব্যাপারে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রদান করেন। নিজামুল হোসেন শান্ত এর নেতৃত্বাধীন দলটি ম্যাচের প্রতিটি দিকেই আত্মবিশ্বাস ও কৌশলগত সচেতনতা দেখিয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
“আমরা এখনও খেলা শেষ করেছি, তাই আমরা এটা নিয়ে চিন্তা করবো। আমরা সাধারণত ফিরে আসতে পারি। তারা আমাদের সবদিক থেকে চমৎকারভাবে সম্পন্ন করেছে; তারা ধৈর্যশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ,” কামিন্স যোগ করেন।
বাংলাদেশের বোলিং শক্তির এই ম্যাচের ফল নিয়ে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল। হাসান মাহমুদ ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তার বোলিং অপরাধের জন্য। অন্যদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ পাঁচ উইকেট নিয়ে এবং ব্যাটিংয়ে একটি অর্ধশতক করে পারফরম্যান্স সুবিধা অর্জন করেন। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান যথেষ্ট ছিল যাতে অস্ট্রেলিয়াকে চাপের মধ্যে রাখা যায়।
বাংলাদেশের অলরাউন্ড দাপট
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন এর ব্যাটিং ছিল একটি উজ্জ্বল দিক। তিনি ৮৫ রান করেন, যা তার দেশের মাটি উপর সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর, কিন্তু অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের সাথে যথেষ্ট সাপোর্ট পাননি। কামিন্স গ্রিনের অবদান গ্রহণ করেন এবং সহযোগিতার অভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং তা উল্লেখ করেন।
কামিন্স জোশ হ্যাজলউড এর পারফরম্যান্সও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন,যদিও তিনি পুরো ম্যাচে হেরে গেছেন। উল্লেখযোগ্য হলো, তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ইনজুরিতে ভুগছেন, তবুও তার শ্রম ও সংকল্প দিয়ে দলের জন্য কাজ করছেন। কামিন্সের মন্তব্যগুলি হ্যাজলউডের স্থিরতা ও সাধারণ শিক্ষা নিয়ে।
“গ্রিনের ত্বরিততা বর্ণনা করে যে সুপরিসরে তিনি কতটা ভালো। তাকে পাশে চাইছিলাম। জোশ ইনজুরির জন্য কাজ করতে পারেনি, তবে সে অনেক কঠোর পরিশ্রমী,” কামিন্স বলেন।
এই পরাজয়ের ফলে অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের সিরিজে ০-১ পিছিয়ে পড়েছে। এখন তাদের পরবর্তী ম্যাচে কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে।
